সমান্তরাল

সেলিম মোহাম্মেদ

⭐ অবশেষে তাহলে তোমাকে পাওয়া গেলো! এর আগেও তোমাকে দু’দুবার কল করেছিলাম কিন্তু পাইনি, সারাদিন কোথায় ছিলে শুভ?
⭐হোম মিনিস্টারের ড্রাইভার হিসেবে ব্যস্ত ছিলাম সারাদিন।


⭐আরে আমি তো সেই খবরটা জানার জন্যই সকাল থেকে উদগ্রীব হয়ে আছি, কিন্তু তোমাদের ওখানে তো হোম মিনিস্টার যায়নি- গিয়েছে তো প্রাইমিনিস্টার! তুমি হোম মিনিস্টারকে পেলে কোথায়?
⭐আরে ধুর, তুমি দেখি এখনো সেই টিউব লাইট-ই রয়ে গেছো!
⭐ শোনো শুভ- আমি কিন্তু এখন তিন তিনটে সন্তানের মা হয়ে গেছি, অথচ তুমি বলছো আমি এখনো টিউব লাইট রয়ে গেছি, এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা। আচ্ছা এবার বলো তুমি হোম মিনিস্টারকে কোথায় পেলে?
⭐আরে ভাই হোম মিনিস্টার মানে আমার অর্ধাঙ্গিনী। সাপ্তাহিক গ্রোসারি কিনতে গিয়েছিলাম বাংলাদেশী গ্রোসারি দোকানে।
⭐ এই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলাটা এখনো ছাড়োনি তাহলে? আচ্ছা তোমরা কি ওখানে বাংলাদেশী সব প্রোডাক্ট পাও?
⭐ হ্যা স—ব কিছুই পাই, আজতো শাপলা পর্যন্ত পেলাম, আজ অনেকদিন পর দেশী চিংড়ি আর শাপলা ভাজি খেলাম। তবে একটা প্রোডাক্ট কোথাও পাইনি এখনো, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি কবে পাবো বলে!

⭐ শাপলাও পাওয়া যায়?
⭐হুম শাপলাও
⭐তাহলে এখন আর কোন জিনিসটার অপেক্ষায় আছো?
⭐ সেটা হলো কাঁঠালের বার্গার, দেশে নিশ্চয়ই তোমরা বেশ মজা করে কাঁঠালের বার্গার খাচ্ছো তাই না? এবার দেশে এলে অবশ্যই খাবো, খাওয়াবে তো?

⭐ আমার সাথে মজা করছো?
⭐বলো কী! শেখ হাসিনার রেসিপি নিয়ে মজা করবো সে সাহস আমার আছে? দেশের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এতো ফালতু রেসিপি দেয়নি!
⭐আরে ধুর- মূল কথাটাই তো এখনো জানা হলোনা, যা জানার জন্য তোমাকে কয়েকবার কল দিয়েছি।
⭐বলো তাহলে কি জানতে চাও?
⭐ প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনায় গিয়েছিলে তুমি?
⭐ এটা জানার জন্য‌‌‌ আমাকে খুঁজছিলে?
⭐হ্যা, ওখানে কি হয়েছে কি কি বললো সব কিছু জানতে চাই।

⭐ শুনো তাহলে, প্রথমত এটা কোন নাগরিক সংবর্ধনা ছিলনা,এটা ছিলো দলীয় কর্মীদের নিয়ে রুচিহীন গপ্পো করার আসর, যেখানে রুচিশীল ভদ্র সমাজের মানুষের কোন বিচরণ থাকে না।
⭐ তোমাদের মতো রুচিশীল মানুষরা গেলেই তো আর রুচিহীন কথা বলতে পারতো না, তোমরা প্রতিবাদ করতে পারতে!

⭐ তাঁর মুখের যে ভাষা- তার প্রতিবাদ করতে হলে যে ভাষা বলতে হবে সে ভাষা ভদ্র মানুষের মুখে আসে না, তাই তাঁর এসব নির্লজ্জ মিথ্যাচার আর বেহায়াপনা দেখতে বা শুনতে কোন ভদ্রলোক যায় না। তার প্রতিবাদ করার জন্য বিভিন্ন দলের লোকজন ডিম/ঝাড়ু/আরো কি কি যেনো নিয়ে গিয়েছিল, অবশ্য এবার এসবের ব্যবহার খুব কম হয়েছে, কারণ উনি পেছনের দরজা দিয়ে সম্পুর্ন মানসম্মান নিয়ে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে গেছে।এই পেছনের দরজাটা ওনার খুব প্রিয়।

⭐হ্যা— এবার বুঝতে পেরেছি তোমাদের না যাওয়ার কারণটা, নিশ্চয়ই তোমরা ঢুকতে পারোনি, আর সে কারণেই এতো রাগের কথা!

⭐ প্রভা এখানেই তোমাদের আর আমাদের চিন্তা চেতনার ফারাকটা। তোমরা সকলকেই তোমাদের মতো মনে করো। সে কারণেই তোমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা এখন বিশ্বের অনেকেই কানেও তুলে না। তা ছাড়া একটি বিশেষ প্রাণী আছে- যে একটু উঁচু কিছু দেখলেই পেছনের পা উঁচিয়ে হিসু করে দেয়, উনিও ওনার চেয়ে বেশী বিজ্ঞ এবং সম্মানিত মানুষ দেখলেই ওনার রুচিহীন বিষাক্ত ভাষায় অপমান অপদস্থ করে আনন্দ উপভোগ করেন ঐ বিশেষ প্রাণীটির মতো। তাই তাঁর সব কথার প্রতিবাদ করারও প্রয়োজন হয়না। কখনো কখনো নিরবতাই হয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ।

⭐ তুমি যা-ই বলো না কেনো, আমাদের প্রধানমন্ত্রী খোলামেলা কথা বলতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
⭐ কথাটা মন্দ বলোনি, ওনার মতো এতো খোলামেলা অসত্য আর রুচিহীন কথা বলার মতো মানুষ আমার জীবনে আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি। ইদানিং ওনার রুচিহীন বিষাক্ত ভাষা ব্যবহারের মূল কারণটা কিন্তু অন্য কিছু, যা সবাই না বুঝলেও আমার মতো সংবাদ কর্মীদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।

⭐ তুমি কি বলতে চাও শুভ?
⭐ শুনো তাহলে, ইউরোপ আমেরিকা এবং উন্নত বিশ্বের সবাই মিলে, গত পনেরো বছরের শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের শিকড়গুলো ইতিমধ্যেই কেটে ফেলেছে, তাই সে প্রচন্ড রেগে আছে, আর কথায় আছে – রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন, এই কারণেই সে কথা বলার সময় তাঁর টেম্পার ধরে রাখতে পারে না। সুন্দর করে কথা শুরু করে ঠিক-ই কিন্তু যখনি মনে পরে তাঁর ক্ষমতা চলে যাচ্ছে, তখন রাগ আর মনের জ্বালায় তাঁর অরিজিনাল ভাষা বলতে শুরু করে দেয়। তাঁর এই অসংলগ্ন আচরণের উপর একটা কৌতুক শুনিয়ে তোমার কাছ থেকে বিদায় নেবো আজকের মতো।


এক লোক নতুন করে কলকাতার বাবুদের মতো বাংলা বলতে শুরু করেছে। একদিন বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি যাচ্ছিলো, রাস্তায় একই এলাকার এক ছেলে বললো, দাদা কোথা থেকে এলেন? জবাবে বললেন। আরে ভাই বাজারে গিয়েছিলাম কেনাকাটা করতে।
ছেলেটা বললো কই কি কিনলেন? হাতে তো কিছুই দেখছি না!


বুড়ো জবাবে বললো, বাজার থেকে মাছ/ডাল/শাকসবজি কিনে নিয়ে ঐ বটমূলে রেখে আমি জল বিয়োগ করতে একটু গাছের আড়ালে গিয়েছিলুম, ও-মা ফিরে এসে দেখি- কোন্ হালার পুত্ হালায় জানি আমার সব চুরি কইরা লইয়া গেছে!!! ; চলবে – ৪থ পর্ব। সেলিম মোহাম্মেদ, লন্ডন ইউ কে। ৪ অক্টোবর ২০২৩.