‘ড্যান্ডি’নেশায় আসক্ত হচ্ছে সৈয়দপুর’র ছিন্নমূল শিশুরা

মমিন আজাদ : ‘ড্যান্ডি’ নামক একধরণের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে সৈয়দপুরের ছিন্নমূল শিশুরা। বাসস্টেশন, রেলস্টেশনে বসে ড্যান্ডি সেবন করে এসব শিশুরা। জুতা কিংবা ফোমে ব্যবহৃত সলিউশন (আঠা) পলিথিনে ভরে কিছুক্ষণ পরপর মুখের সামনে নিয়ে শ্বাস টেনে নেশা করতে দেখা যায় এসব শিশুদের।

অপরদিকে জুতার আঠা নিষিদ্ধ কোনো বস্তু না হওয়ায় এ ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শহরের বিভিন্ন এলাকায় হরহামেসাই ছিন্নমূল শিশুকে এ নেশা গ্রহণ করতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০ থেকে ৪০ টাকায় একধরনের জুতার গাম ক্রয় করে শিশুরা। জুতা মেরামতের সরঞ্জাম বিক্রয় করে এসব দোকানে পাওয়া যায় জুতার গাম । পলিথিনের ব্যাগে আঠাল ওই পদার্থ নিয়ে কিছুক্ষণ ঝাঁকানো হয়। তারপর পলিথিন থেকে নাক বা মুখ দিয়ে বাতাস টেনে নেয়। এই নেশা ড্যান্ডি নামেই পরিচিত।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় গিয়ে কথা হলে দুই ছিন্নমূল শিশুর বাংলা রিপোর্ট’কে জানায়, সারাদিন ময়লা ফেলার এলাকায় আবর্জনা থেকে কাগজ ও প্লাস্টিক কুড়ায়। এরপর ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে ২/৩শ টাকা আয় হয় ।ভাঙ্গারি বিক্রির টাকা দিয়েই তারা ড্যান্ডি সেবনর সলিউশন (আঠা) ক্রয় করে । ড্যান্ডি কিভাবে সংগ্রহ করে এমন প্রশ্নের জবাবে একজন জানায়, আমাদের দেখলে দোকান মালিকদের কেউ কেউ নাক শিটকায়। আবার কেউ কেউ বেশী দাম দিয়ে বিক্রি করে। আবার অনেক দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের রয়েছে সখ্যতা। তারাই বিক্রি করে। তাদের মধ্যে একজন জানায়, মালিকরা দূর থেকে আইকা পার্টি চলে আসছে বলে সম্বোধন করে। কখনো কখনো জুতা যারা সেলাই করে তাদেরকে টাকা দিলে তারা এনে দেয়।

অনেক সময় তারাও ড্যান্ডি নেশায় শরিক হয় । মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প খরচের মাদক হচ্ছে গাম। বয়স ও সামর্থ্য ভেদে নেশার উপকরণেও পার্থক্য আছে। আট থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুরা সাধারণত গাঁজা, সিগারেট ও গাম সেবন করে। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা ফেনসিডিল ও হেরোইন সেবন করে। মধ্যবিত্ত বা উ”চ মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোর-যুবকদের নেশার অন্যতম উপকরণ ইয়াবা। তবে অধিকাংশ পথশিশুরা ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত। ৩১ জুলাই ২০২০.