গণপূর্তে এক আতঙ্কের নাম রেজা!

বাংলা রিপোর্ট : গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (বি ২০০৫) তথাকথিত সভাপতি রেজাউল করিম রেজা এক আতঙ্কের নাম।

কর্মচারীরা কথা না শুনলে গায়ে হাত তোলা এমনকি ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী  দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা, বদলির ভয় দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণ।

কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি আদায় করার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভেঙ্গে গুড়িয়ে পদদলিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তথ্যসূত্রে উঠে গত ২মার্চ আনোয়ার হোসেন কার্যকরী সভাপতি (গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন) কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ গায়ে হাত দেওয়ার জন্য একাধিকবার ছুটে আসেন এবং আনোয়ার হোসেনকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন রেজাউল করিম রেজা।

কথিত সভাপতি রেজা আনোয়ার হোসেনকে আরো ভয় দেখিয়ে বলেন ২০১৬সালে  সোহাগ ও মোখলেছুর রহমান কে যেভাবে কুপিয়ে  ছিলাম তোকেও সেভাবে কুপিয়ে হাত-পা আলাদা করে দেবো।

উল্লেখ্য উক্ত বিষয়ে রেজার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। যার নম্বর ১৩/২০১৬,তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬।

রেজা সভাপতি হওয়ার পর থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নে বসিয়ে রাখেন। কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের কে ভয় দেখিয়ে উনি নিজের রাজত্ব কায়েম করেছেন এভাবেই।

রেজার অপকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে  ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ৪ ঢাকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় চেক জালিয়াতির কারণে সাসপেন্ড হয়েছিলেন।

কর্মচারীদের পদোন্নতি পেতে হলে রেজাউল করিম রেজাকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, না দিলে কর্মচারিদের ভাগ্যে নেমে আসে রেজার তৈরি অত্যাচারের পাহাড়। ভাউচার ভিত্তিক বা দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ীকরনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে এই রেজা।

এ বিষয়ে ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারীদের  পক্ষ থেকে  প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তর, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মোঃ আনোয়ার হোসেন গত ৪ মার্চ প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তর বরাবর এক অভিযোগে উপরোক্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। উক্ত বিষয়ে মোঃ আনোয়ার হোসেন শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি ট্রাকিং নং ওচকণডখ, জিডি নং ৪৭২, তারিখ ৬ মার্চ২০২৪।

তথ্যসূত্রে আরো জানাযায়, বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার বি ১৬৪৭ জাতীয় শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত একটি সংগঠন। উক্ত সংগঠনের ২০০৪ এবং ২০০৫ এ সহকারী সম্পাদক পদে বিনা প্রতিযোগিতায় মনোনীত হন রেজাউল করিম রেজা।

গত ১০ জানুয়ারি ২০০৫ইং তারিখ  জাতীয় শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক চিঠিতে  তা উল্লেখ করা হয়। এতে প্রমাণিত হয় ২০০৫ এর পরে ভোল পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগের রূপ ধারণ করে রেজা।

গত ৬/মার্চ বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিস্ট্রেশন বি ২০০৫)এক জরুরী সভায় কার্যকরী সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এক বিশেষ জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় সকল নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে সভাপতি রেজাউল করিম রেজা কে সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

উক্ত বরখাস্তের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মোঃআনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কেন্দ্রীয় পরিষদ এবং এইচএম মতিউর রহমান মহাসচিব কেন্দ্রীয় পরিষদ  বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন বি- ২০০৫।

ফলে বরখাস্ত হওয়া সভাপতি রেজাউল করিম রেজা খুবই ক্ষুব্ধ হন এবং অপমানিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গত ১১মার্চ আনুমানিক বিকাল ৩ টায় কিছু সংখ্যক কর্মচারী ও বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে মিছিল করে গণপূর্ত অধিদপ্তর কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পেস্টন ভাঙচুর পদদলিত করে রেজাউল করিম রেজা ও তার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব  এইচএম মতিউর রহমান। তিনি এ নেক্কার জনক ঘটনাটি প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদফতরকে লিখিত ভাবে গত ২১ এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখ, ২০২৪/২৭ স্মারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আনোয়ার ও মহাসচিব এইচ এম মতিউর রহমান উত্থাপন করেন।

উক্ত বিষয়ে এখনো কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন কিনা তা জানা যায়নি। সূত্রে জানা যায়, গত  ২৬সেপ্টেম্বর ২০২৩, স্মারক নং  বাগঅশ্রকইউ/২০২৩ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়ন এইচ এম মতিউর রহমানকে মহাসচিব হিসেবে  নির্বাচিত করেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে  দৈনিক আজকের সংবাদকে রেজাউল করিম রেজা জানায়, ছবি ভাঙ্গার ও অভিযোগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। ঢাকা, বুধবার ২৯ মে ২০২৪.