ঈর্ষা

প্রতিটা অর্জন ও সাফল্যের নেপথ্যে অর্জনকারীর যেমন মেধা,ত্যাগ ও শ্রম থাকে, ঠিক তেমনই শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে কথিত শুভাকাঙ্ক্ষী নামক কিছু মানুষের মারাত্মক ঈর্ষা থাকে, যা সময়ের ব্যবধানে ক্রমান্বয়ে প্রকাশ পেতে থাকে।ধরাধাম সৃষ্টির শুরু থেকেই এমন নিকৃষ্ট মানসিকতার প্রচলন আমাদের অনেকের চরিত্রের ঘৃনিত বাতিক হিসেবে চিহ্নিত ও চলমান রয়েছে ।

নিদিষ্ট একটি বিষয়ের উপর সকল মানুষের পর্যবেক্ষণ অভিন্ন হবেনা এটাই কিন্তু স্বাভাবিক, তবুও সাদা কালোর তারতম্যর দৃশ্যমাণ অবয়বকে অস্বীকার করা বা এটাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে মতান্ধতায় ভিন্ন আংগিকে প্রকাশ করার দুঃসাহস যাদের রয়েছে, তাদের মতামতকে আমলে না নিয়ে ভদ্রচিতভাবে এড়িয়ে চলাই উত্তম। কারণ বাস্তবটা প্রমাণ কল্পে কাদা ছোড়াছুঁড়ির অংশগ্রহণে সঠিক ট্রাকে থাকা ব্যক্তির অস্তিত্ববোধ ও রুচিবোধ সাধারণ মানুষের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হয়। একটু অরুচিকর পদক্ষেপের জন্য সাধারণ মানুষ ঈর্ষান্বিত ব্যক্তির সমালোচনায় এতটা মুখর থাকেনা,যতটা স্বচ্ছ চরিত্রের মানুষের প্রতিত্তোরে মুখরিত হয়। কারণ পচনধরা মানসিকতার সমালোচনা করে সাধারণ মানুষ নিজেদের অরুচিকর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশে অস্তিত্বসংকট সৃষ্টির বিষয়ে বহুলাংশে সচেতন।

একজন মানুষের নিদিষ্ট একটা পদক্ষেপ যেমন কারো নিকট ভুল,কারো নিকট অজ্ঞতা, কারো নিকট গোয়ার্তমি হিসেবে গণ্য হয়ে সমালোচনার টর্নেডো শুরু হয়, তেমনি বহুলাংশের নিকট সঠিক বলেই প্রতীয়মান হয়। সঠিক বলে ধরে নেওয়া মানুষগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমনটা স্বপ্রণোদিত মতামত দিতে সরব হয়না, কারণ সঠিকতার বিশ্লেষণ হয়না, বিশ্লেষণ হয় মতান্ধ মতামতের অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যাদের অজ্ঞতা ও অনুমাননির্ভর পারছেপশন রয়েছে, তারাই সরব হয়ে নিজেদের মনগড়া বা অযৌক্তিক ইচ্ছাশক্তিকে সঠিক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, যা দিনশেষে তলানিতেই স্থান পায়। অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী বা পরিচিতজনদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ আপনার সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভিত্তিহীন ও মনগড়া সমালোচনা করলেই যে আপনি অগণিত মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্যতা হারালেন, তা কিন্তু নয়।

আপনার সিদ্ধান্তের সঠিকতা যাচাই করার জন্য জুরিবোর্ড না বসিয়ে একটি সমীক্ষার উপর নির্ভরশীল হোন, যা হলোঃ আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনের আনুমানিক সংখ্যাটি নির্ধারণ করুন এবং এর মধ্যে কত পার্সেন্ট মানুষ আপনার মতামতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, গ্রহণযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা , মানবতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও মানসিকতার এসেসমেন্ট সম্পর্কে চুলচেরা ভেরিফাই করুণ, সহজেই দেখতে পাবেন এদের বিরুদ্ধাচারণ বা ভিত্তিহীন সমালোচনা সঠিক ছিলোনা। এরা আপনার স্তরে পৌছাতে না পেরে অথবা আপনার সাফল্য ও গ্রহণযোগ্যতাকে রীতিমতো প্যানিক মনেকরে গতিপথ অবরুদ্ধ করার জন্য ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অযথাই আপনাকে পীড়াদানকারী কীট হিসেবে কামড়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে ব্যস্ত।

এরাও মানুষ কিন্তু ভিন্নতা তাদের রুচিবোধ ও ঈর্ষায়। সামনে অগ্রসর হতে চাইলে উল্লেখিত চরিত্রের শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের এমন সমালোচনা, ঈর্ষা ও অরুচিকর প্রশ্নের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, কৌশলে এদের এড়িয়ে চলুন। মানুষ হিসেবে আমি সকলের নিকট পুরোপুরি আস্থাভাজন ও গ্রহনযোগ্য হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ প্রতিটি মানুষের চিন্তাচেতনা,রুচিবোধ, মানসিকতা ও প্রজ্ঞায় যে ভিন্নতা রয়েছে, তারা তদ্রূপভাবেই আপনার কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়ন করবে। কার মূল্যায়ন আপনাকে কতটুকু সাহায্যে করেছে, তা নিশ্চয়ই আপনার জানা আছে বিধায়, চাইলেই প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে আপনাকে যেমন অসংখ্য লোকের নিকট খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই, ঠিক তেমনই অল্প সংখ্যক লোকের সমালোচনা বা ঈর্ষায় আপনি নিরুৎসাহিত না হয়ে লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য সিদ্ধান্তে অটুট থাকুন।

দিনশেষে আপনার জয় অবধারিত, আর নিন্দুক ও ভিত্তিহীন সমালোকদের ঠাই ডাষ্টবিনেই হবে। কাউকে এড়িয়ে চলার অর্থ এই নয় যে,আপনি তার প্রতি খারাপ মনোভাব পোষণ করছেন, এড়িয়ে চলার অর্থ হলো নিজ সিদ্ধান্তের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করা জঞ্জাল থেকে মুক্ত থাকা। সকলের সাথে সুসম্পর্ক রাখার সুযোগ কারো নেই। অপমান, যন্ত্রণা ও অরুচিকর বাক্য হজম করে কারো সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের এড়িয়ে চলাই উত্তম পন্থা।ভুল করা প্রতিটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। ভুল ও অজ্ঞতার উর্ধে আমরা কেউ নই কিন্তু অন্যের ভুলকে যারা খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারাই ঈর্ষাপরায়ণ ও ক্ষতিকারক কীট। এই লেখায়ও কত নীতিবাক্যের সমালোচনা থাকবে, এটাও হজম করে চলতে হবে। কারণ আমি সকলের প্রিয় হওয়ার যোগ্যতা রাখিনা বা সুযোগও নেই কিন্তু সম্মানবোধ অটুট রাখতে চেষ্টা করি, যদি কেউ গ্রহণ করতে না জানে, সেটা তার অজ্ঞতা। আমিও প্রচুর ভুল করি, আমার অজ্ঞতা রয়েছে সীমাহীন কিন্তু ছোট করার প্রত্যয়ে কাউকে অসন্মানজনক ও ভিত্তিহীন বাক্য বিনিময় করিনা।

মোস্তাফিজুর রহমান। গোপালগঞ্জ। তারিখঃ২৫/০৫/২০২১ ইং।