আনার হত্যায় আওয়ামী লীগ নেতা আটক

বাংলা রিপোর্ট : সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

৬ জুন বৃহস্পতিবার রাতে ডিবির একটি দল শহরের আদর্শপাড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্যাস বাবুকে ধরে ঢাকায় নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান। আটক হওয়া কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহিন এবং হত্যাকাণ্ডের মূল অনুঘটক চরমপন্থি নেতা শিমুল ভুঁইয়ার আত্মীয়। 

তিনি বলেন, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আগে থেকেই শহরে অবস্থান করছিলো। রাতে অভিযান চালিয়ে বাবুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকাতে নিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্যাস বাবুকে ধরা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত শাহিন ও শিমুলের আত্মীয় হওয়ায় তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে গোয়েন্দারা। 

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অপু একাত্তরকে বলেন, তিনবারের সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় নেতা আনারুল আজিম আনার হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য যে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। 

তিনি বলেন, আমি শুনেছি কাজী কামাল আহমেদ বাবু আটক হয়েছেন। আমরা চাই, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যারাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদেরকে খুঁজে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।

এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।

খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ফেলার কাজে অংশ নেয়া মুম্বাই থেকে ভাড়া করে আনা কসাই জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। জিহাদ কলকাতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। 

আর ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক চরমপন্থি নেতা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া। এই তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নেপালে গ্রেপ্তার হয়েছে সিয়াম হোসেন নামে আরেক অভিযুক্ত। সিয়ামও মরদেহ ফেলায় অংশ নিয়েছিল বলে সন্দেহ। ০৭ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএমআপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ০১:১১ পিএম.